১১ নভেম্বর ২০১০ - ২০:৩০

রেডিও তেহরানের বরাত দিয়ে আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: দীর্ঘ আট মাস টানাপড়েনের পর ইরাকে এখন নয়া মন্ত্রীসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দীর্ঘ আট মাস টানাপড়েনের পর ইরাকে এখন নয়া মন্ত্রীসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইরাকের রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্যরা গতরাতে সংসদের এক অধিবেশনে আয়াদ আলাভির নেতৃত্বাধীন আল ইরাকিয়া জোটের সদস্য ওসামা আন নাজিফিকে স্পিকার পদে নির্বাচন করেছেন। এর মধ্যদিয়ে নয়া মন্ত্রীসভা গঠনের পথে সব বাঁধা দূর হয়েছে। সংসদ স্পিকার নির্বাচনের পর সাংসদরা পূর্ব সমঝোতা অনুযায়ী জালাল তালাবানিকে প্রেসিডেন্ট পদে বহাল রাখার পক্ষে ভোট দেন।জালাল তালাবানি আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর সংসদে বলেছেন, ইরাক বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখবে। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারাজানির উদ্যোগে তিন সপ্তাহ আগে রাজনৈতিক সমঝোতার নয়া প্রচেষ্টা শুরু হয়। এরপর গত দশই নভেম্বর সিদ্ধান্ত হয় নূরি আল মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী এবং জালাল তালাবানিকে প্রেসিডেন্ট পদে বহাল রেখেই সরকার গঠন করা হবে। পাশাপাশি আল ইরাকিয়া জোটকে সংসদ স্পিকার ও কৌশলগত নীতি সংক্রান্ত কাউন্সিলের প্রধানের পদ দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। গত সাতই মার্চের সংসদ নির্বাচনে কোন জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইরাকে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়। ওই নির্বাচনে আয়াদ আলাভির নেতৃত্বাধীন আল ইরাকিয়া জোট ৯১ টি, নূরি আল মালিকির নেতৃত্বাধীন স্টেট অব ল কোয়ালিশন ৮৯ টি এবং সাইয়্যেদ আম্মার হাকিমের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল এলায়েন্স ৭০ টি আসন পেয়েছিল। ইরাকের নির্বাচনের পর স্টেট অব ল কোয়ালিশন এবং ইরাকি এলায়েন্স একীভূত হয়ে নয়া জোট গঠন করে। এর ফলে শিয়া মুসলমানদের ওই এলায়েন্সটিই সর্ববৃহৎ জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সংবিধান অনুযায়ী সর্ববৃহৎ জোট হিসেবে মালিকি-আম্মারের নেতৃত্বাধীন জোটের উপর সরকার গঠনের দায়িত্ব এসে পড়ে। কিন্তু তারাও জাতীয় সমঝোতার ভিত্তিতে সরকার গঠন করতে চাচ্ছিল।এ অবস্থায় বিদেশী হস্তক্ষেপ বিশেষকরে আমেরিকার নানা ষড়যন্ত্র এবং কোন কোন রাজনৈতিক দলের জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী তৎপরতার পরও সেখানে নয়া মন্ত্রীসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সেদেশের জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়া এ সমঝোতার মধ্যদিয়ে ইরাকের ইতিহাসে এক নয়া অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করা হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর জালাল তালাবানি সর্ববৃহৎ জোটের নেতা হিসেবে নূরি আল মালিকিকে নয়া মন্ত্রীসভা গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি সাফল্যের সঙ্গে একটি দক্ষ মন্ত্রীসভা উপহার দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।#